চলতি দশক শেষে ফক্সওয়াগন ছাঁটাই করবে ১ লাখ কর্মী

ফক্সওয়াগন গত বৃহস্পতিবার জানায়, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ বিষয়ে একমত হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৫০ হাজার কর্মী কমানো হবে। এর সঙ্গে আগে সম্মত হওয়া আরো ৫০ হাজার চাকরি ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ কর্মীসংখ্যা প্রায় ১ লাখ কমবে।

বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে যাচ্ছে জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন। চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি মোট ১ লাখ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) দুর্বল চাহিদা ও চীনের তীব্র প্রতিযোগিতার চাপে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা। খবর জাপান টুডে।

ফক্সওয়াগন গত বৃহস্পতিবার জানায়, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ বিষয়ে একমত হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৫০ হাজার কর্মী কমানো হবে। এর সঙ্গে আগে সম্মত হওয়া আরো ৫০ হাজার চাকরি ছাঁটাইয়ের বিষয়টিও রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ কর্মীসংখ্যা প্রায় ১ লাখ কমবে।

বিশ্বজুড়ে ফক্সওয়াগনের মোট কর্মীর প্রায় ১৫ শতাংশ এ ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বে। এর আগে ২০০৯ সালে দেউলিয়া হওয়ার পর জেনারেল মোটরস প্রায় ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। ফক্সওয়াগনের পরিকল্পনা সে সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ১০টি ব্র্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে ফক্সওয়াগনের পাশাপাশি অডি ও পোর্শের মতো ব্র্যান্ডও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কর্মীর সংখ্যা কমানো জরুরি।

ফক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুম বলেন, ‘কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তদারকি বোর্ড সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এটি ফক্সওয়াগন গ্রুপের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।’

তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি জার্মানিতে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হ্যানোভার, এমডেন, জুইকাউ ও নেকারজুল্মের চারটি কারখানার দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানায় ফক্সওয়াগন। এসব কারখানার বিকল্প ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যানুযায়ী, কোনো কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত এখনো অনুমোদন করা হয়নি। ইউনিয়ন ও লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা বলছেন, তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ফলে কোনো কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

জার্মানিতে ফক্সওয়াগনের পূর্ণাঙ্গ কোনো কারখানা বন্ধ হলে তা হবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ঘটনা। কারণ নিজ দেশে এর আগে কোনো পূর্ণাঙ্গ কারখানা বন্ধ করেনি কোম্পানিটি।

জুইকাউ কারখানার এক কর্মী বলেন, ‘এটি বন্ধ হলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। শুধু কারখানার কর্মীরাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এদিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে ফক্সওয়াগনের ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। গণমাধ্যমে এক লাখ কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করে ইউনিয়নগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, ফক্সওয়াগনের এ বড় পুনর্গঠনের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কোম্পানির ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ইভির বাজারে চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না।

সবচেয়ে বড় চাপ আসছে চীন থেকে। চীনা গাড়ি নির্মাতারা নিজেদের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।

ফলে ইউরোপের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা ফক্সওয়াগনকে ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করতে হচ্ছে।

আরও